মার্কিন শুল্কচাপ সামলে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করছে ভারত

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত উচ্চ শুল্ক সত্ত্বেও ২০২৫ সালে ভারতের রফতানি বাণিজ্য তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত উচ্চ শুল্ক সত্ত্বেও ২০২৫ সালে ভারতের রফতানি বাণিজ্য তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। রফতানিকারক ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এতে সহায়তা করেছে পণ্যবাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজারবৈচিত্র্য ও একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। মার্কিন শুল্কচাপ পুরোপুরি প্রযোজ্য হওয়া সত্ত্বেও নতুন বছরে রফতানির ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে বলেও মনে করছেন তারা। খবর দ্য হিন্দু।

ভারতের রফতানিকারকদের জন্য ২০২৫ সাল ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। বিশ্বের শীর্ষ এ অর্থনীতি ভারতের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার হওয়ায় এর প্রভাবও বড়। তবে দ্রুতই বিকল্প বাজার অনুসন্ধান ও সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেন রফতানিকারকরা।

গত পাঁচ বছরে একাধিক সংকট দেখেছে বিশ্ব। এর মাধ্যেও পণ্য রফতানিতে উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে ভারত। ২০২০ পঞ্জিকাবর্ষে দেশটির পণ্য রফতানির আকার ছিল ২৭ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার ৩৩০ কোটি ডলারে। ২০২৩ সালে রফতানি প্রায় ৩৯ হাজার কোটি ডলারে নেমে গেলেও পরের বছর ফের ঘুরে দাঁড়ায় এবং ৪৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে দেশটির রফতানির (সেবা বাদে শুধু পণ্য) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে।

দেশটির বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল গত সপ্তাহে জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (এপ্রিল-মার্চ) ভারতের পণ্য ও সেবা রফতানি সম্মিলিতভাবে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ৫২৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশের বেশি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রফতানি হয়েছে ৫৬ হাজার ২০০ কোটি ডলারের পণ্য ও সেবা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে বলে আশাবাদী ভারত সরকার।

তিনি আরো জানান, ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্য, ওমান ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের তিনটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা। এসব চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্য ও সেবার জন্য নতুন বাজার খুলবে এবং রফতানিতে গতি আসবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে কিছুটা ধাক্কা লাগলেও নভেম্বরে দেশটিতে ভারতের রফতানি ২২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় ভারতের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্পেন, চীন ও বাংলাদেশের মতো বাজারে রফতানিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের রফতানি এখন আর শুধু ঐতিহ্যবাহী খাতের ওপর নির্ভরশীল নয়। ইলেকট্রনিকস খাতে রফতানি দ্রুত বেড়েছে। পাশাপাশি রফতানি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রকৌশল পণ্য, ওষুধ, গাড়ি, বস্ত্র, পোশাক ও সামুদ্রিক পণ্য।

রফতানিকারকদের সহায়তায় ভারত সরকার সম্প্রতি ২৫ হাজার ৬০ কোটি রুপির রফতানি প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, ঋণ পরিশোধে ছাড় ও সময় বাড়ানো এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, ওমান ও নিউজিল্যান্ডসহ একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে ভারত।

ভারতের সামনে চলতি বছর চ্যালেঞ্জ কিছু রয়েছে। এ সময় বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। কারণ ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে ও সুরক্ষাবাদী নীতি জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হারে অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় ও অর্থায়নের কড়াকড়িও রফতানিকারকদের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।

আরও